ঢাকা ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতীয় সংবাদ পরিষদের সভাপতি নূর হাকিম সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী নান্টু পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নিজের ঘরে নিজে আগুন দিয়ে মিথ্যা মামলায় হয়রানি গ্রামবাসীদের ফাঁসানোর চেষ্টা! সেুঁজুতির মনোনয়ন নিয়ে সাতক্ষীরায় তোলপাড়, শশুর রাজাকার! ভাসুর বিএনপি নেতা সাতকানিয়া ছদাহা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে অবৈধভাবে মাটি কাটায় ৫০ (হাজার) টাকা জরিমানা বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের ববি শাখার নেতৃত্বে ইব্রাহিম-শান্ত প্রতারণার মামলায় যুব-মহিলালীগ নেত্রী ও তার স্বামী রিমান্ডে শাহজালালে যৌথ অভিযানে ২ কেজি ১০৪ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার, গ্রেফতার ৪ যাত্রী গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জাতীয় যুব কাউন্সিলের সভাপতি:মাসুদ আলম ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত রামেবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

কবাই পানি ব্যাবস্থাপনা সমবায় সমিতি লি: এর বিরুদ্ধে অন্তহীন দুর্নীতির অভিযোগ!

  • আপডেট সময় : ০৪:৩২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৩
  • ২১২২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:- বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের শিয়ালঘুনী গ্রামে ‘কবাই পানি ব্যাবস্থাপনা সমবায় সমিতি লি: ‘প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০০ সালে। সমবায় সমিতিটি এখন কাগজ পত্রে রয়েছে নেই কোন প্রকার কার্যক্রম। কবাই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান বাদল তালুকদারের ছত্রছায়ায় সমিতিটি এখন দখল করে নিয়েছে তার ছোট ভাই মো: ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার। গত দুই বছর যাবত পকেট কমিটির মাধ্যমে চেয়ারম্যান বাদল তালুকদার তার আপন ভাই মো: ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদারকে সভাপতি ও তার চাচাতো ভাই মো: রেজাউল হালিম তালুকদারকে সাধারন সম্পাদক করে ২৭৬ জন সদস্য করে ব্যাবস্থাপনা কমিটি করেছেন নামে মাত্র। অথচ এই সমিতির ঘরে সভাপতি মো: ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার দুই বছর যাবত তার পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন। যেখানে সমিতির অফিসের কোন কার্যক্রম নেই।

কবাই পানি ব্যাবস্থাপনা সমবায় সমিতি লি: এর বিরুদ্ধে
ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির কারণে সমিতির কয়েকজন সদস্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের কোন কাজের বিষয়ে অন্যান্য সদস্যদের অবহিত না করে সভাপতি নিজেই কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এবং অন্যান্য সদস্যদের স্বাক্ষর জাল -জালিয়াতীর মাধ্যমে অফিসের সাবমিট করে প্রতিবছর প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দ সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার আত্মসাৎ করে আসছেন। লিখিত অভিযোগে তারা আরো জানান, সমিতির একাধিক সদস্য ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে। তাদেরকেও বর্তমানে সমিতির সদস্য হিসেবে বিদ্যমান রাখা হয়েছে। ইউনিয়নের খোদা বক্স কাঠি, চুনাখালি ও কালের কাঠি গ্রামে ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তাদের৷

অনুসন্ধানে দেখা যায়, কবাই পানি ব্যাবস্থাপনা সমবায় সমিতির ২০২১/২২ সালের বার্ষিক নিরীক্ষার প্রথম অংশের প্রতিবেদন অডিট করেছেন জেলা সমবায় কার্যালয়ের পরিদর্শক মোঃ আফসার উদ্দিন। সেখানে সমিতির মূল কার্যক্রম দেখানো হয়েছে, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রবর্তন করা ও দারিদ্র্য ও ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং কর্ম এলাকার সভ্যগনের নিয়মিত সঞ্চয় ও সীমিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সম্পদ সংগঠনের মাধ্যমে সুসংগঠিত করিয়া মূলধন গঠন ও মূলধনের সঠিক ব্যবস্থাপনা করিয়া তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক উন্নয়নে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। অথচ এসব শুধু কাগজ আর কলমের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোন প্রকার কার্যক্রম নেই এই সমিতিতে।

একাধিক সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, মো: ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার সভাপতি হয়ে তার নিজের কয়েকজন লোক নিয়ে সিন্ডিকেট করে উপজেলা এলজিইডি অফিস ও জেলা সমবায় অফিস ম্যানেজ করে সরকারের টাকা আত্মসাৎ করতেই কাগজ-কলমে এই সমিতির কার্যক্রম দেখিয়েছে। বিগত বছরগুলোতে এই এলাকায় যেসব কাজ হয়েছে তার কোন চিহ্ন এখন নেই। তাই সরকারের বরাদ্দরকৃত অর্থ যাতে সমিতির নামে আত্মসাৎ না করতে পারে সেজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সমিতির সভাপতি, মো: ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সমিতির বিরুদ্ধে কারাও অভিযোগ করেছেন সেটা তার জানা নেই। অফিস দখল করে তিনি কেন বাসভবন বানিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নদী ভাঙ্গনে আমার বাসা বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। তাই দুই বছর যাবত আমি এখানেই বসবাস করি।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিডি নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের মিয়া জানান, বিগত কয়েক বছর সমিতির মাধ্যমে ঐ এলাকায় কোন কার্যক্রম করা হয়নি। সভাপতি যদি অফিস দখল করে নিজের বাসভবন বানিয়ে থাকে বিষয়টি উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংবাদ পরিষদের সভাপতি নূর হাকিম সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী নান্টু

কবাই পানি ব্যাবস্থাপনা সমবায় সমিতি লি: এর বিরুদ্ধে অন্তহীন দুর্নীতির অভিযোগ!

আপডেট সময় : ০৪:৩২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক:- বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের শিয়ালঘুনী গ্রামে ‘কবাই পানি ব্যাবস্থাপনা সমবায় সমিতি লি: ‘প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০০ সালে। সমবায় সমিতিটি এখন কাগজ পত্রে রয়েছে নেই কোন প্রকার কার্যক্রম। কবাই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান বাদল তালুকদারের ছত্রছায়ায় সমিতিটি এখন দখল করে নিয়েছে তার ছোট ভাই মো: ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার। গত দুই বছর যাবত পকেট কমিটির মাধ্যমে চেয়ারম্যান বাদল তালুকদার তার আপন ভাই মো: ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদারকে সভাপতি ও তার চাচাতো ভাই মো: রেজাউল হালিম তালুকদারকে সাধারন সম্পাদক করে ২৭৬ জন সদস্য করে ব্যাবস্থাপনা কমিটি করেছেন নামে মাত্র। অথচ এই সমিতির ঘরে সভাপতি মো: ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার দুই বছর যাবত তার পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন। যেখানে সমিতির অফিসের কোন কার্যক্রম নেই।

কবাই পানি ব্যাবস্থাপনা সমবায় সমিতি লি: এর বিরুদ্ধে
ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির কারণে সমিতির কয়েকজন সদস্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের কোন কাজের বিষয়ে অন্যান্য সদস্যদের অবহিত না করে সভাপতি নিজেই কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এবং অন্যান্য সদস্যদের স্বাক্ষর জাল -জালিয়াতীর মাধ্যমে অফিসের সাবমিট করে প্রতিবছর প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দ সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার আত্মসাৎ করে আসছেন। লিখিত অভিযোগে তারা আরো জানান, সমিতির একাধিক সদস্য ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে। তাদেরকেও বর্তমানে সমিতির সদস্য হিসেবে বিদ্যমান রাখা হয়েছে। ইউনিয়নের খোদা বক্স কাঠি, চুনাখালি ও কালের কাঠি গ্রামে ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তাদের৷

অনুসন্ধানে দেখা যায়, কবাই পানি ব্যাবস্থাপনা সমবায় সমিতির ২০২১/২২ সালের বার্ষিক নিরীক্ষার প্রথম অংশের প্রতিবেদন অডিট করেছেন জেলা সমবায় কার্যালয়ের পরিদর্শক মোঃ আফসার উদ্দিন। সেখানে সমিতির মূল কার্যক্রম দেখানো হয়েছে, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রবর্তন করা ও দারিদ্র্য ও ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং কর্ম এলাকার সভ্যগনের নিয়মিত সঞ্চয় ও সীমিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সম্পদ সংগঠনের মাধ্যমে সুসংগঠিত করিয়া মূলধন গঠন ও মূলধনের সঠিক ব্যবস্থাপনা করিয়া তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক উন্নয়নে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। অথচ এসব শুধু কাগজ আর কলমের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোন প্রকার কার্যক্রম নেই এই সমিতিতে।

একাধিক সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, মো: ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার সভাপতি হয়ে তার নিজের কয়েকজন লোক নিয়ে সিন্ডিকেট করে উপজেলা এলজিইডি অফিস ও জেলা সমবায় অফিস ম্যানেজ করে সরকারের টাকা আত্মসাৎ করতেই কাগজ-কলমে এই সমিতির কার্যক্রম দেখিয়েছে। বিগত বছরগুলোতে এই এলাকায় যেসব কাজ হয়েছে তার কোন চিহ্ন এখন নেই। তাই সরকারের বরাদ্দরকৃত অর্থ যাতে সমিতির নামে আত্মসাৎ না করতে পারে সেজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সমিতির সভাপতি, মো: ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সমিতির বিরুদ্ধে কারাও অভিযোগ করেছেন সেটা তার জানা নেই। অফিস দখল করে তিনি কেন বাসভবন বানিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নদী ভাঙ্গনে আমার বাসা বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। তাই দুই বছর যাবত আমি এখানেই বসবাস করি।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিডি নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের মিয়া জানান, বিগত কয়েক বছর সমিতির মাধ্যমে ঐ এলাকায় কোন কার্যক্রম করা হয়নি। সভাপতি যদি অফিস দখল করে নিজের বাসভবন বানিয়ে থাকে বিষয়টি উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।