ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাকেরগঞ্জে চেয়ারম্যান হানিফ তালুকদার কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা উত্তোলন প্রকাশ হলো সুজন-তুলসীর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “কলেজ গার্ল” গাজীপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে সাংবাদিকের গাছপালা কেটে ক্ষতিসাধন মধুপুরে প্রাইভেটকার ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ আহত ৮ শিল্পী সমিতির সদস্যদের জন্য ১০ লাখ টাকা অনুদান দিলেন ডিপজল জুড়ী নদীর বাঁধে ভাঙন ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শনে যান উপজেলা চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি বিএনপি নেতার বাড়িতে আওয়ামী লীগ নেতাদের গোপন বৈঠক, গৌরনদীতে ব্যাপক তোলপাড় ! দেশীয় তৈরী বন্ধুকসহ একাদিক মামলার আসামী নিজাম উদ্দিন’কে গ্রেফতার করেছে দাগনভূঁঞা থানা পুলিশ গরিব ও অসহায় মানুষদের লাখপতি করাই যার নেশা ! বর্ণাঢ্য আয়োজনে কলসকাঠী তে ঈদ পুনর্মিলনী উদযাপিত

বিএনপি মন্ত্রীর এপিএস এখন যুব উন্নয়নের প্রকল্প পরিচালক

  • মাসুদ রানা
  • আপডেট সময় : ০১:২৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩
  • ২২৫৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তিনি পেশায় শিক্ষক কিন্তু তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে শুধু লাভজনক পদে পদায়িত হতে পছন্দ করেন। যেসব পদে পোষ্টিং নিলে ঘুষ বাণিজ্য করা যায় বেছে বেছে সেসব পদে পোষ্টিং নিচ্ছেন তিনি। তবে এরমধ্যে প্রকল্প পরিচালক পদটাকেই তিনি বেছে নিয়েছেন। আবার প্রকল্পের কেনাকাটা শেষ হলেই তিনি চলে যান অন্য প্রকল্পে। কারণ প্রকল্পের কেনাকাটা শেষ হয়ে গেলে বাস্তবায়নে শুধুই খাটাখাটি; তাই কেনাকাটা শেষেই তিনি সটকে পড়েন। তিনি শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা এস এম আলমগীর কবির। তিনি ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানের এপিএস ছিলেন। ২০২০-২০২২ সাল পর্যন্ত জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনষ্টিটিউট এর উপপরিচালক ছিলেন। এছাড়াও তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইংলিশ ইন এ্যাকশন শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরি কমিশন এর উচ্চ শিক্ষা মানোন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের এআইএফ কোর্ডিনেটর ছিলেন।যেখানেই পদায়িত হয়েছেন সেখানেই তিনি দুর্নীতির জন্য সমালোচিত হয়েছেন। আর ঘুষের টাকায় ঢাকা ও তার জন্মস্থান বাগেরহাটে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। ঢাকার উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে বিলাশবহুল বাড়ি, বসুন্ধরার কে ব্লক ও এম ব্লকে ৫ কাঠার ৪টি প্লট, ইস্কাটনে ৩টি ফ্ল্যাট ও ধানমন্ডিতে একটি ফ্ল্যাট। বাগেরহাটে চিংড়ি ঘের ছাড়াও আছে প্রায় ৩০ একর জায়গা।

বর্তমানে তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তি নির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক। আর এই প্রকল্পে ঢুকেই তিনি আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে দফায় দফায় ঘুষ বাণিজ্য করে যাচ্ছেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে আউটসোর্সিংয়ে প্রায় ৫০০ জনবল নিয়োগে বড় অঙ্কের অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে প্রকল্প পরিচালক আলমগীর কবির জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে বঞ্চিতদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিপূর্বে মন্ত্রণালয়েপ যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দরপত্র বাতিল হলেও বহাল তবিয়তে ঘুষ বাণিজ্যে আছেন প্রকল্প পরিচালক আলমগীর কবির।

পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের জন্য কোম্পানী নির্বাচন করা হলেও কোম্পানীকে বাদ দিয়ে বেআইনিভাবে তিনি নিজেই জনবল নিয়োগ দিয়ে দিচ্ছেন। আর এভাবে প্রতি জনবল থেকে তিনি আদায় করছেন দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। টাকার বিনিময়ে নেওয়া এইসব জনবলের বায়োডাটায় নিজেই ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও এমপি-মন্ত্রীদের সুপারিশ নিচ্ছেন। যাতে তার এই নিয়োগ বাণিজ্যে কেউ সন্দেহ না করে। তবে তা ইতিমধ্যেই ফাঁস হয়ে গেছে। আলমগীর কবির এর এই নিয়োগ বাণিজ্যে জনবল সংগ্রহের সাথে সম্পৃক্ত এস আর এসোসিয়েটস্ এর কামরুল, পিমা কোম্পানীর বাকের। আর তাকে অফিসিয়ালী সহযোগিতা করছেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা। তাই হরহামেশাই তিনি নিয়োগ বাণিজ্য করে যাচ্ছেন। কোম্পানীগুলির সাথে গত ১৪ ডিসেম্বর চুক্তি সম্পন্ন হলেও এখনও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগের এক পুরনো অভিজ্ঞ জনবলদের বাদ দেওয়ার ফন্দি এঁটেছেন প্রকল্প পরিচালক। এতে প্রায় ২শতাধিক জনবল বেকার হয়ে যাচ্ছে। ‘দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তি নির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পে এমন অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের পাঁচ লটের মধ্য তিন লটেই এমনটা করছেন প্রকল্প পরিচালক।

অভিযোগ সূত্র মতে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগের জন্য একুশে সার্ভিস, মাছরাঙা সিকিউরিটি সার্ভিস ও রেডিসন কোম্পানী নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জনবল সরবরাহের জন্য গত ১৪ ডিসেম্বর কার্যাদেশ পান। ৫টি লটের মধ্যে ২টি লটের জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। ৫ নং লটে প্রকল্প পরিচালক ও মাছরাঙা সিকিউরিটি সার্ভিস এক যোগসাজসে নাম মাত্র কিছু পুরানো জনবল নিয়োগ দিয়ে নতুন অভিজ্ঞ অনেক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। আবার ৩ নং লটেও পুরানো অল্প কয়েকজন রেখে নতুন জনবল নিয়োগ দিয়েছে প্রকল্প পরিচালক ও একুশে সার্ভিস। এই দুই লটে জনবল নিয়োগ কার্যক্রমে কোন পরীক্ষা না নিলেও বাকী ৩ লটে পুরানো জনবলকে বাদ দেওয়ার নতুন ফন্দি এঁটেছেন প্রকল্প পরিচালক। দরপত্রের সাথে যে জনবলের বায়োডাটা দেওয়া হয়েছে তাদেরকে নাম মাত্র পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ এর ফন্দি এঁটেছেন। সে মোতাবেক আগামী ৩০শে জানুয়ারী দরপত্রের সাথে প্রদত্ত তালিকা অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষা হবে। আর এর মাধ্যমেই পুরানো অভিজ্ঞ জনবলকে বাদ দিতে যাচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক আলমগীর কবির।

ভুক্তভোগীরা জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে সকল অর্জিত কার্যক্রমের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে যুব উন্নয়নের একটি নিয়োগ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ওই সিন্ডিকেটের সাথে সমঝোতা ছাড়া কেউ নিয়োগ পাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযুক্তরা জানান, আমরা দীর্ঘদিন এই প্রকল্পের ১ম ও ২য় পর্যায়ে নিরলসভাবে দক্ষতার সহিত কাজ করেছি। পরবর্তীতে কাজ পাওয়ার আশায় গত ২/৩ বছর যাবত অপেক্ষা করে আছি। তখন আমাদের বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আবার পুরনোদের মধ্যে যারা বিএনপি-জামাত এর পরিবারের তাদেরকে প্রায়োরিটি দেওয়া হচ্ছে। নতুন টাকার বিনিময়ে যাদের নেওয়া হচ্ছে তারাও বেশিরভাগ বিএনপি-জামাতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

আরেক অভিযোগকারী বলেন, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আমাদেরকে নিয়োগ দিতে বললেও তাঁর নির্দেশ অমান্য করে বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। আর এই প্রক্রিয়ার সহিত প্রকল্প পরিচালক আলমগীর কবির জড়িত। প্রকল্প পরিচালক উপরে আমাদের পক্ষে থাকলেও ভিতরে নতুন জনবল থেকে টাকা নিয়ে তাদেরকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। নতুবা তিনি এই ধরনের নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করতেন না। শুধু পুরাতন জনবলকে বাদ দেওয়ার জন্য এই আয়োজন করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ‘দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তি নির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পে পরিচালক আলমগীর কবিরকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাকেরগঞ্জে চেয়ারম্যান হানিফ তালুকদার কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা উত্তোলন

বিএনপি মন্ত্রীর এপিএস এখন যুব উন্নয়নের প্রকল্প পরিচালক

আপডেট সময় : ০১:২৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তিনি পেশায় শিক্ষক কিন্তু তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে শুধু লাভজনক পদে পদায়িত হতে পছন্দ করেন। যেসব পদে পোষ্টিং নিলে ঘুষ বাণিজ্য করা যায় বেছে বেছে সেসব পদে পোষ্টিং নিচ্ছেন তিনি। তবে এরমধ্যে প্রকল্প পরিচালক পদটাকেই তিনি বেছে নিয়েছেন। আবার প্রকল্পের কেনাকাটা শেষ হলেই তিনি চলে যান অন্য প্রকল্পে। কারণ প্রকল্পের কেনাকাটা শেষ হয়ে গেলে বাস্তবায়নে শুধুই খাটাখাটি; তাই কেনাকাটা শেষেই তিনি সটকে পড়েন। তিনি শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা এস এম আলমগীর কবির। তিনি ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানের এপিএস ছিলেন। ২০২০-২০২২ সাল পর্যন্ত জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনষ্টিটিউট এর উপপরিচালক ছিলেন। এছাড়াও তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইংলিশ ইন এ্যাকশন শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরি কমিশন এর উচ্চ শিক্ষা মানোন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের এআইএফ কোর্ডিনেটর ছিলেন।যেখানেই পদায়িত হয়েছেন সেখানেই তিনি দুর্নীতির জন্য সমালোচিত হয়েছেন। আর ঘুষের টাকায় ঢাকা ও তার জন্মস্থান বাগেরহাটে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। ঢাকার উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে বিলাশবহুল বাড়ি, বসুন্ধরার কে ব্লক ও এম ব্লকে ৫ কাঠার ৪টি প্লট, ইস্কাটনে ৩টি ফ্ল্যাট ও ধানমন্ডিতে একটি ফ্ল্যাট। বাগেরহাটে চিংড়ি ঘের ছাড়াও আছে প্রায় ৩০ একর জায়গা।

বর্তমানে তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তি নির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক। আর এই প্রকল্পে ঢুকেই তিনি আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে দফায় দফায় ঘুষ বাণিজ্য করে যাচ্ছেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে আউটসোর্সিংয়ে প্রায় ৫০০ জনবল নিয়োগে বড় অঙ্কের অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে প্রকল্প পরিচালক আলমগীর কবির জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে বঞ্চিতদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিপূর্বে মন্ত্রণালয়েপ যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দরপত্র বাতিল হলেও বহাল তবিয়তে ঘুষ বাণিজ্যে আছেন প্রকল্প পরিচালক আলমগীর কবির।

পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের জন্য কোম্পানী নির্বাচন করা হলেও কোম্পানীকে বাদ দিয়ে বেআইনিভাবে তিনি নিজেই জনবল নিয়োগ দিয়ে দিচ্ছেন। আর এভাবে প্রতি জনবল থেকে তিনি আদায় করছেন দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। টাকার বিনিময়ে নেওয়া এইসব জনবলের বায়োডাটায় নিজেই ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও এমপি-মন্ত্রীদের সুপারিশ নিচ্ছেন। যাতে তার এই নিয়োগ বাণিজ্যে কেউ সন্দেহ না করে। তবে তা ইতিমধ্যেই ফাঁস হয়ে গেছে। আলমগীর কবির এর এই নিয়োগ বাণিজ্যে জনবল সংগ্রহের সাথে সম্পৃক্ত এস আর এসোসিয়েটস্ এর কামরুল, পিমা কোম্পানীর বাকের। আর তাকে অফিসিয়ালী সহযোগিতা করছেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা। তাই হরহামেশাই তিনি নিয়োগ বাণিজ্য করে যাচ্ছেন। কোম্পানীগুলির সাথে গত ১৪ ডিসেম্বর চুক্তি সম্পন্ন হলেও এখনও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগের এক পুরনো অভিজ্ঞ জনবলদের বাদ দেওয়ার ফন্দি এঁটেছেন প্রকল্প পরিচালক। এতে প্রায় ২শতাধিক জনবল বেকার হয়ে যাচ্ছে। ‘দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তি নির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পে এমন অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের পাঁচ লটের মধ্য তিন লটেই এমনটা করছেন প্রকল্প পরিচালক।

অভিযোগ সূত্র মতে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগের জন্য একুশে সার্ভিস, মাছরাঙা সিকিউরিটি সার্ভিস ও রেডিসন কোম্পানী নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জনবল সরবরাহের জন্য গত ১৪ ডিসেম্বর কার্যাদেশ পান। ৫টি লটের মধ্যে ২টি লটের জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। ৫ নং লটে প্রকল্প পরিচালক ও মাছরাঙা সিকিউরিটি সার্ভিস এক যোগসাজসে নাম মাত্র কিছু পুরানো জনবল নিয়োগ দিয়ে নতুন অভিজ্ঞ অনেক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। আবার ৩ নং লটেও পুরানো অল্প কয়েকজন রেখে নতুন জনবল নিয়োগ দিয়েছে প্রকল্প পরিচালক ও একুশে সার্ভিস। এই দুই লটে জনবল নিয়োগ কার্যক্রমে কোন পরীক্ষা না নিলেও বাকী ৩ লটে পুরানো জনবলকে বাদ দেওয়ার নতুন ফন্দি এঁটেছেন প্রকল্প পরিচালক। দরপত্রের সাথে যে জনবলের বায়োডাটা দেওয়া হয়েছে তাদেরকে নাম মাত্র পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ এর ফন্দি এঁটেছেন। সে মোতাবেক আগামী ৩০শে জানুয়ারী দরপত্রের সাথে প্রদত্ত তালিকা অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষা হবে। আর এর মাধ্যমেই পুরানো অভিজ্ঞ জনবলকে বাদ দিতে যাচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক আলমগীর কবির।

ভুক্তভোগীরা জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে সকল অর্জিত কার্যক্রমের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে যুব উন্নয়নের একটি নিয়োগ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ওই সিন্ডিকেটের সাথে সমঝোতা ছাড়া কেউ নিয়োগ পাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযুক্তরা জানান, আমরা দীর্ঘদিন এই প্রকল্পের ১ম ও ২য় পর্যায়ে নিরলসভাবে দক্ষতার সহিত কাজ করেছি। পরবর্তীতে কাজ পাওয়ার আশায় গত ২/৩ বছর যাবত অপেক্ষা করে আছি। তখন আমাদের বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আবার পুরনোদের মধ্যে যারা বিএনপি-জামাত এর পরিবারের তাদেরকে প্রায়োরিটি দেওয়া হচ্ছে। নতুন টাকার বিনিময়ে যাদের নেওয়া হচ্ছে তারাও বেশিরভাগ বিএনপি-জামাতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

আরেক অভিযোগকারী বলেন, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আমাদেরকে নিয়োগ দিতে বললেও তাঁর নির্দেশ অমান্য করে বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। আর এই প্রক্রিয়ার সহিত প্রকল্প পরিচালক আলমগীর কবির জড়িত। প্রকল্প পরিচালক উপরে আমাদের পক্ষে থাকলেও ভিতরে নতুন জনবল থেকে টাকা নিয়ে তাদেরকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। নতুবা তিনি এই ধরনের নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করতেন না। শুধু পুরাতন জনবলকে বাদ দেওয়ার জন্য এই আয়োজন করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ‘দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তি নির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পে পরিচালক আলমগীর কবিরকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।