ঢাকা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চট্টগ্রামে পাহাড়িদের বৈসাবি উৎসব উচ্চ ডিগ্রি অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করছেন এম ইউ অ্যান্থনি হরিপুরে প্রকৃতি কে সভামন্ডিত করেছে হলুদ বরণের সোনালু ফুল নির্বাচনী আচারন লঙ্ঘন করায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থককে জরিমানা ডিজিটাল কারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার রোধে উচ্চতর প্রশিক্ষণের বিকল্প নাই- সিআইডি প্রধান রাজশাহীতে বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস পালিত বাড্ডায় শিশু অপহরণ ও ক্রয় বিক্রয় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, শিশু মরিয়ম উদ্ধার ৮ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের ভিডিও নিয়ে চিন্তিত সীমা সরকার দেশজুড়ে তোলপাড়! বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি জেলা কমিটি অনুমোদন সভাপতি কামরুজ্জামান সম্পাদক বাদশা এটিএন বাংলার চায়ের চুমুকে সংগঠক ও বিনোদন সাংবাদিক আবুল হোসেন মজুমদার

মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস চক্রে ডাঃসহ ১২ জনকে আটক করেছে সিআইডি

  • মাসুদ রানা
  • আপডেট সময় : ০৬:০০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৩
  • ২১৬৩ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১৭ আগষ্ট থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। সারা দেশের প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেবেন। বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, পাবলিক পরীক্ষা এলেই একশ্রেনীর প্রতারক চক্র বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই চক্র নানা কায়দায় প্রশ্নফাঁস যেমন করে, তেমনি গুজব ছড়িয়ে পরিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্তও করে। শিক্ষাখাতের ক্যান্সার হিসেবে বিবেচিত এসব প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রকে নির্মূল করতে নেতৃত্বস্থানীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

দুপুরে সিআইডি মালিবাগের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি প্রধান এডিশনাল আইজিপি, মোহাম্মদ আলী মিয়া সাংবাদিকদের জানান,
দেশের সকল স্তরের প্রশ্নফাঁস বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে সিআইডির বিশেষায়িত একাধিক দল সারা বছর মাঠে কাজ করে ইতোমধ্যে এসএসসি, এইচএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এবং বিসিএসসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকারী সর্ববৃহৎ চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে নিয়মিত প্রশ্নফাঁসকারী বিশাল এক সিন্ডিকেটের খোঁজ পায় সিআইডির সাইবার পুলিশ।

এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের হয় ( মামলা নং- ৪৩, ২০ জুলাই ২০২০ খ্রি., ধারাঃ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২২(২)/৩৩(২) তৎসহ পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন ১৯৮০ এর ৪/১৩)।

মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায় সাম্প্রতিক চক্রের অন্তত ৮০ সক্রিয় সদস্য বিগত প্রায় ১৬ বছরে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে অবৈধ উপায়ে মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি করিয়ে শত কোটি টাকা আয় করেছে।

বিগত ৩০ জুলাই ২০২৩ থেকে ৯ আগষ্ট ২০২৩ ইং পর্যন্ত ঢাকা, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল জেলায় অভিযান পরিচালনা করে এ চক্রটির ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় সিআইডির সাইবার টিম। গ্রেপ্তারকৃত ১২ জনের মধ্যে ৭ জনই ডাক্তার। এদের প্রায় সবাই বিভিন্ন মেডিকেল ভর্তি কোচিং সেন্টার, নয়তো প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে প্রশ্নফাঁস করতেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৮ জন তাদের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। যাতে শতাধিক শিক্ষার্থীর নাম উঠে এসেছে, যারা প্রশ্ন পেয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। ইতোমেধ্যে অনেকে পাশ করে ডাক্তারও হয়ে গেছে। এদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দেওয়া বিপুল সংখ্যক ব্যাংকের চেক এবং এডমিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। যেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়াও চক্রের মাস্টারমাইন্ড জসীম উদ্দিন ভূইয়ার কাছ থেকে একটি গোপন ডায়রী উদ্ধার করা হয়, যেখানে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা তার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের নাম রয়েছে। সেসব সদস্যদের ধরতে সিআইডির অভিযান অব্যহত রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০০১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৬ বছরে অন্তত ১০ বার এই চক্র মেডিকেলের প্রশ্নফাঁস করেছে। এদের ব্যাংক একাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যেগুলো মানিলন্ডারিং মামলায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গ্রেফতারের সময় আসামীদের হতে উদ্ধারকৃত আলামতঃ মোবাইল ফোন ১৯ টি, ল্যাপটপ- ৪টি, নগদ টাকা ২,১১,০০০/-, বিদেশী মুদ্রা- ১৫,১০০ থাই বাথ, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড -১৫টি, ভর্তির এডমিট কার্ড উদ্ধার করা হয়।প্রশ্নফাঁস রোডে সিআইডি স্পেশাল টিম প্রতিনিয়ত কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস :

চট্টগ্রামে পাহাড়িদের বৈসাবি উৎসব

মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস চক্রে ডাঃসহ ১২ জনকে আটক করেছে সিআইডি

আপডেট সময় : ০৬:০০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৩

আগামী ১৭ আগষ্ট থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। সারা দেশের প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেবেন। বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, পাবলিক পরীক্ষা এলেই একশ্রেনীর প্রতারক চক্র বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই চক্র নানা কায়দায় প্রশ্নফাঁস যেমন করে, তেমনি গুজব ছড়িয়ে পরিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্তও করে। শিক্ষাখাতের ক্যান্সার হিসেবে বিবেচিত এসব প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রকে নির্মূল করতে নেতৃত্বস্থানীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

দুপুরে সিআইডি মালিবাগের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি প্রধান এডিশনাল আইজিপি, মোহাম্মদ আলী মিয়া সাংবাদিকদের জানান,
দেশের সকল স্তরের প্রশ্নফাঁস বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে সিআইডির বিশেষায়িত একাধিক দল সারা বছর মাঠে কাজ করে ইতোমধ্যে এসএসসি, এইচএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এবং বিসিএসসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকারী সর্ববৃহৎ চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে নিয়মিত প্রশ্নফাঁসকারী বিশাল এক সিন্ডিকেটের খোঁজ পায় সিআইডির সাইবার পুলিশ।

এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের হয় ( মামলা নং- ৪৩, ২০ জুলাই ২০২০ খ্রি., ধারাঃ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২২(২)/৩৩(২) তৎসহ পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন ১৯৮০ এর ৪/১৩)।

মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায় সাম্প্রতিক চক্রের অন্তত ৮০ সক্রিয় সদস্য বিগত প্রায় ১৬ বছরে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে অবৈধ উপায়ে মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি করিয়ে শত কোটি টাকা আয় করেছে।

বিগত ৩০ জুলাই ২০২৩ থেকে ৯ আগষ্ট ২০২৩ ইং পর্যন্ত ঢাকা, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল জেলায় অভিযান পরিচালনা করে এ চক্রটির ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় সিআইডির সাইবার টিম। গ্রেপ্তারকৃত ১২ জনের মধ্যে ৭ জনই ডাক্তার। এদের প্রায় সবাই বিভিন্ন মেডিকেল ভর্তি কোচিং সেন্টার, নয়তো প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে প্রশ্নফাঁস করতেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৮ জন তাদের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। যাতে শতাধিক শিক্ষার্থীর নাম উঠে এসেছে, যারা প্রশ্ন পেয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। ইতোমেধ্যে অনেকে পাশ করে ডাক্তারও হয়ে গেছে। এদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দেওয়া বিপুল সংখ্যক ব্যাংকের চেক এবং এডমিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। যেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়াও চক্রের মাস্টারমাইন্ড জসীম উদ্দিন ভূইয়ার কাছ থেকে একটি গোপন ডায়রী উদ্ধার করা হয়, যেখানে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা তার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের নাম রয়েছে। সেসব সদস্যদের ধরতে সিআইডির অভিযান অব্যহত রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০০১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৬ বছরে অন্তত ১০ বার এই চক্র মেডিকেলের প্রশ্নফাঁস করেছে। এদের ব্যাংক একাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যেগুলো মানিলন্ডারিং মামলায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গ্রেফতারের সময় আসামীদের হতে উদ্ধারকৃত আলামতঃ মোবাইল ফোন ১৯ টি, ল্যাপটপ- ৪টি, নগদ টাকা ২,১১,০০০/-, বিদেশী মুদ্রা- ১৫,১০০ থাই বাথ, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড -১৫টি, ভর্তির এডমিট কার্ড উদ্ধার করা হয়।প্রশ্নফাঁস রোডে সিআইডি স্পেশাল টিম প্রতিনিয়ত কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।