ঢাকা ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চট্টগ্রামে পাহাড়িদের বৈসাবি উৎসব উচ্চ ডিগ্রি অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করছেন এম ইউ অ্যান্থনি হরিপুরে প্রকৃতি কে সভামন্ডিত করেছে হলুদ বরণের সোনালু ফুল নির্বাচনী আচারন লঙ্ঘন করায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থককে জরিমানা ডিজিটাল কারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার রোধে উচ্চতর প্রশিক্ষণের বিকল্প নাই- সিআইডি প্রধান রাজশাহীতে বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস পালিত বাড্ডায় শিশু অপহরণ ও ক্রয় বিক্রয় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, শিশু মরিয়ম উদ্ধার ৮ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের ভিডিও নিয়ে চিন্তিত সীমা সরকার দেশজুড়ে তোলপাড়! বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি জেলা কমিটি অনুমোদন সভাপতি কামরুজ্জামান সম্পাদক বাদশা এটিএন বাংলার চায়ের চুমুকে সংগঠক ও বিনোদন সাংবাদিক আবুল হোসেন মজুমদার

সাজেক’কে ও হার মানাবে মিরিঞ্জা ভ্যালি, যেন এক মেঘের রাজ্য

  • আপডেট সময় : ১২:১০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩
  • ২১৮২ বার পড়া হয়েছে

মুহাম্মদ এমরান
বান্দরবান:- বান্দরবা নলামা উপজেলার পাহাড় ঘেষে গড়ে উঠেছে “মিরিঞ্জা ভ্যালি(নামটি স্থানীয় ভাবেই দেয়া)”। আকাশলীনা এই মিরিঞ্জা ভ্যালি যেন সাজেক’কে ও হার মানাবে। পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে “মিরিঞ্জা ভ্যালি”।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় এটির অবস্থান। চকরিয়া থেকে লামা যাওয়ার পথে লামার কাছেই এই পাহাড়ের অবস্থান। যাওয়ার রাস্তাও খুব সহজ, তেমন একটা কষ্ট পথ নেই কারণ, গাড়িতে করেই কাছাকাছি চলে আসতে পারে। গাড়ি থেকে নেমে শুধু মাত্র ১০ মিনিট হেঁটেই গন্তব্য স্থলে পৌঁছানো যায়।

প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়ে পর্যটকদের অনাবিল আনন্দ দিতে চিরসবুজ সাজে সেজে ওঠেছে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় অবস্থিত “মিরিঞ্জা ভ্যালি”। এখানে রয়েছে সু-উচ্চ সবুজ পাহাড়-বনানীঘেরা আঁকাবাঁকা পথ, আকাশ, মেঘ, পাখিদের কুহু কুহু ডাক, সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের এক অনাবিল রূপ মিরিঞ্জা ভ্যালিকে দিয়েছে নয়নাভিরাম নৈসর্গিক সৌন্দর্য।

প্রকৃতি যেন তার উদার হাতে সুনিপুণ কারিগরের মতো মুকুটশিখর মিরিঞ্জা পাহাড়কে মোহনীয় করে সাজিয়ে রেখেছে। ঘন সবুজের আবরণ, ঘন মেঘ ও কুয়াশায় আবৃত মিরিঞ্জা ভ্যালি অবসরের প্রতিটি ক্ষণ ভরে উঠবে।

উপজাতীয়দের টং-ঘরে পাহাড়ি নর-নারীর সরল জীবনযাপন, এ যেন এক অনন্য ভুবন। মিরিঞ্জা ভ্যালির চূড়া যেন এক সবুজ মায়া, টিলা-টক্কর, পাহাড়ি ঝরণা, সবুজঅরন্য পথ এখানে কতো যে আমোদ ছড়ানো তা এখানে না এলে বোঝাই যাবে না। এখানকার মানুষের হৃদয়ে রয়েছে দিগন্তের বিস্তার আর আতিথ্যের ঐশ্বর্য। যা মিরিঞ্জা ভ্যালিতে না আসলে বুঝা যায় না।

শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত যেনো মিরিঞ্জা ভ্যালিকে নতুন রূপে সাজায়। বিশেষ করে শীতের সময় মিরিঞ্জা ভ্যালিতে বিরাজ করে আবহমান মেঘ। যা পর্যটকদের মনকে মেঘের সাগরে ভাসিয়ে দেয়। এই মিরিঞ্জা ভ্যালি যেন এক সর্গের রাজ্য, মেঘের রাজ্য’ও বটে।

আপনি চাইলে মিরিঞ্জা ভ্যালি ঘুরে, মিরিঞ্জা ভিউ পয়েন্ট দেখে লামা হয়ে আলীকদমে যেতে পারেন।লামা হয়ে আলীকদমের দিকে যত যাবেন ততই পাহাড়ের উচ্চতা আরো বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের সবথেকে উঁচু রাস্তাতে ও একসাথে ঘুরে আসতে পারেন বাংলাদেশের সবচেও উঁচু পাহাড়, ডিম পাহাড় এবং তাজিনডং। আলীকদম থেকে এই রাস্তা উপরের দিকে উঠতে শুরু করে ডিম পাহাড়ে রাস্তার উচ্চতা ২৫০০ ফুট। আপনি চাইলে একদিনে এই জায়গাগুলো ঘুরে আবার চলে আসতে পারবেন কক্সবাজার চকরিয়া কিংবা চট্টগ্রামে।

কিভাবে যাবেন: রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের চিরিঙ্গা/চকরিয়ার টিকিট কাটুন।
এরপর চিরিঙ্গা/চকরিয়া বাস টার্মিনাল থেকে বাস অথবা চাঁদের গাড়িতে করে চকরিয়া-লামা সড়কের মিরিঞ্জা টপে নামুন।

অথবা কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম নামুন। চট্টগ্রাম থেকে বাস যোগে চিরিঙ্গা/চকরিয়া বাস টার্মিনালে আসুন। আর যারা ঢাকা থেকে বিমানে যেতে চান তারা ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার নামুন। সেখান থেকে চিরিঙ্গা/চকরিয়া বাস টার্মিনাল থেকে একই ভাবে যাওয়া যায়। চকরিয়া থেকে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৩০-৩৫ মিনিট। মিরিঞ্জা টপে নেমে লামা পৌরসভার সাইনবোর্ডের পাশ ঘেঁষেই রাস্তা দিয়ে উঠে যাবেন মিরিঞ্জা ভ্যালিতে।

কোথায় থাকবেন: মিরিঞ্জা ভ্যালিতে ঘুরে ফিরে সূর্য্যডোবার সৌন্দর্য অবলোকন করে চাইলে মিরিঞ্জা ভ্যালিতে ক্যাম্পেইন করে থাকতে পারবেন। স্হানীয় যুবকদের সহযোগীতা চাইলে ওরা গাইডলাইন দিবে। অথবা, সন্ধ্যায় লামাবাহী বাস কিংবা চাঁদের গাড়ি করে উপজেলা সদরে যেতে পারবেন। সেখানে উন্নতমানের খাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। আবাসিক বোর্ডিং এর মধ্যে রয়েছে হোটেল সি হিল। এখানে আপনি রাত্রী যাপন করতে পারেন।

আকাশনীলা আর মেঘের সৌন্দর্যের বর্ণনা করে পর্যটকরা বলেন, “ওই যে মিরিঞ্জা ভ্যালি! দেখতে পাচ্ছেন মেঘ, এতো কাছ থেকে মেঘ দেখতে পাবো কখনো কল্পনাও করিনি। কিন্তু আজ মিরিঞ্জা ভ্যালিতে এসে খুব কাছ থেকেই মেঘ দেখেছি। কি চমৎকার পরিবেশ! খুবই ভালো লেগেছে। মনটা ভরে গেছে।

ট্যাগস :

চট্টগ্রামে পাহাড়িদের বৈসাবি উৎসব

সাজেক’কে ও হার মানাবে মিরিঞ্জা ভ্যালি, যেন এক মেঘের রাজ্য

আপডেট সময় : ১২:১০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩

মুহাম্মদ এমরান
বান্দরবান:- বান্দরবা নলামা উপজেলার পাহাড় ঘেষে গড়ে উঠেছে “মিরিঞ্জা ভ্যালি(নামটি স্থানীয় ভাবেই দেয়া)”। আকাশলীনা এই মিরিঞ্জা ভ্যালি যেন সাজেক’কে ও হার মানাবে। পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে “মিরিঞ্জা ভ্যালি”।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় এটির অবস্থান। চকরিয়া থেকে লামা যাওয়ার পথে লামার কাছেই এই পাহাড়ের অবস্থান। যাওয়ার রাস্তাও খুব সহজ, তেমন একটা কষ্ট পথ নেই কারণ, গাড়িতে করেই কাছাকাছি চলে আসতে পারে। গাড়ি থেকে নেমে শুধু মাত্র ১০ মিনিট হেঁটেই গন্তব্য স্থলে পৌঁছানো যায়।

প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়ে পর্যটকদের অনাবিল আনন্দ দিতে চিরসবুজ সাজে সেজে ওঠেছে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় অবস্থিত “মিরিঞ্জা ভ্যালি”। এখানে রয়েছে সু-উচ্চ সবুজ পাহাড়-বনানীঘেরা আঁকাবাঁকা পথ, আকাশ, মেঘ, পাখিদের কুহু কুহু ডাক, সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের এক অনাবিল রূপ মিরিঞ্জা ভ্যালিকে দিয়েছে নয়নাভিরাম নৈসর্গিক সৌন্দর্য।

প্রকৃতি যেন তার উদার হাতে সুনিপুণ কারিগরের মতো মুকুটশিখর মিরিঞ্জা পাহাড়কে মোহনীয় করে সাজিয়ে রেখেছে। ঘন সবুজের আবরণ, ঘন মেঘ ও কুয়াশায় আবৃত মিরিঞ্জা ভ্যালি অবসরের প্রতিটি ক্ষণ ভরে উঠবে।

উপজাতীয়দের টং-ঘরে পাহাড়ি নর-নারীর সরল জীবনযাপন, এ যেন এক অনন্য ভুবন। মিরিঞ্জা ভ্যালির চূড়া যেন এক সবুজ মায়া, টিলা-টক্কর, পাহাড়ি ঝরণা, সবুজঅরন্য পথ এখানে কতো যে আমোদ ছড়ানো তা এখানে না এলে বোঝাই যাবে না। এখানকার মানুষের হৃদয়ে রয়েছে দিগন্তের বিস্তার আর আতিথ্যের ঐশ্বর্য। যা মিরিঞ্জা ভ্যালিতে না আসলে বুঝা যায় না।

শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত যেনো মিরিঞ্জা ভ্যালিকে নতুন রূপে সাজায়। বিশেষ করে শীতের সময় মিরিঞ্জা ভ্যালিতে বিরাজ করে আবহমান মেঘ। যা পর্যটকদের মনকে মেঘের সাগরে ভাসিয়ে দেয়। এই মিরিঞ্জা ভ্যালি যেন এক সর্গের রাজ্য, মেঘের রাজ্য’ও বটে।

আপনি চাইলে মিরিঞ্জা ভ্যালি ঘুরে, মিরিঞ্জা ভিউ পয়েন্ট দেখে লামা হয়ে আলীকদমে যেতে পারেন।লামা হয়ে আলীকদমের দিকে যত যাবেন ততই পাহাড়ের উচ্চতা আরো বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের সবথেকে উঁচু রাস্তাতে ও একসাথে ঘুরে আসতে পারেন বাংলাদেশের সবচেও উঁচু পাহাড়, ডিম পাহাড় এবং তাজিনডং। আলীকদম থেকে এই রাস্তা উপরের দিকে উঠতে শুরু করে ডিম পাহাড়ে রাস্তার উচ্চতা ২৫০০ ফুট। আপনি চাইলে একদিনে এই জায়গাগুলো ঘুরে আবার চলে আসতে পারবেন কক্সবাজার চকরিয়া কিংবা চট্টগ্রামে।

কিভাবে যাবেন: রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের চিরিঙ্গা/চকরিয়ার টিকিট কাটুন।
এরপর চিরিঙ্গা/চকরিয়া বাস টার্মিনাল থেকে বাস অথবা চাঁদের গাড়িতে করে চকরিয়া-লামা সড়কের মিরিঞ্জা টপে নামুন।

অথবা কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম নামুন। চট্টগ্রাম থেকে বাস যোগে চিরিঙ্গা/চকরিয়া বাস টার্মিনালে আসুন। আর যারা ঢাকা থেকে বিমানে যেতে চান তারা ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার নামুন। সেখান থেকে চিরিঙ্গা/চকরিয়া বাস টার্মিনাল থেকে একই ভাবে যাওয়া যায়। চকরিয়া থেকে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৩০-৩৫ মিনিট। মিরিঞ্জা টপে নেমে লামা পৌরসভার সাইনবোর্ডের পাশ ঘেঁষেই রাস্তা দিয়ে উঠে যাবেন মিরিঞ্জা ভ্যালিতে।

কোথায় থাকবেন: মিরিঞ্জা ভ্যালিতে ঘুরে ফিরে সূর্য্যডোবার সৌন্দর্য অবলোকন করে চাইলে মিরিঞ্জা ভ্যালিতে ক্যাম্পেইন করে থাকতে পারবেন। স্হানীয় যুবকদের সহযোগীতা চাইলে ওরা গাইডলাইন দিবে। অথবা, সন্ধ্যায় লামাবাহী বাস কিংবা চাঁদের গাড়ি করে উপজেলা সদরে যেতে পারবেন। সেখানে উন্নতমানের খাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। আবাসিক বোর্ডিং এর মধ্যে রয়েছে হোটেল সি হিল। এখানে আপনি রাত্রী যাপন করতে পারেন।

আকাশনীলা আর মেঘের সৌন্দর্যের বর্ণনা করে পর্যটকরা বলেন, “ওই যে মিরিঞ্জা ভ্যালি! দেখতে পাচ্ছেন মেঘ, এতো কাছ থেকে মেঘ দেখতে পাবো কখনো কল্পনাও করিনি। কিন্তু আজ মিরিঞ্জা ভ্যালিতে এসে খুব কাছ থেকেই মেঘ দেখেছি। কি চমৎকার পরিবেশ! খুবই ভালো লেগেছে। মনটা ভরে গেছে।